AyurvedicUpchar
বাসক অবলেহ — আয়ুর্বেদিক ভেষজ

বাসক অবলেহ: কাশি, দম ও রক্তপিত্তের ঘরোয়া आयুर्वेদिक সমাধান

2 মিনিট পড়ার সময়আপডেট:

বিশেষজ্ঞ পর্যালোচিত

AyurvedicUpchar সম্পাদকীয় দল দ্বারা পর্যালোচিত

বাসক অবলেহ আসলে কী এবং কেন এটি ব্যবহার করবেন?

বাসক অবলেহ হলো বাসক গাছের পাতা ও ছাল থেকে তৈরি একটি ঘন আচার বা মুরাব্ব জাতীয় ঔষধ, যা মূলত দীর্ঘস্থায়ী কাশি, দম (অ্যাজমা), ব্রঙ্কাইটিস এবং ফুসফুস থেকে রক্ত পড়া রোধ করতে ব্যবহৃত হয়। এটি শ্লেষ্মা গলিয়ে বের করে আনতে এবং শ্বাসনালীর প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

আমাদের দেশের রান্নাঘরে যেমন হলুদ বা আদা ব্যবহার করা হয়, তেমনি आयुर्वेদে বাসককে ফুসফুসের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী ভেষজ হিসেবে গণ্য করা হয়। চরক সংহিতা ও ভাবপ্রকাশ নিঘণ্টুতে এর উল্লেখ আছে যে, এটি শরীরের পিত্ত ও কফ দোষ শান্ত করে। তবে খালি পেটে বা অতিরিক্ত মাত্রায় খেলে এটি বাতের সমস্যা বাড়াতে পারে, তাই সঠিক নিয়ম মেনে সেবন জরুরি।

বাসক অবলেহর তিক্ত ও কষায় স্বাদ কেবল মুখের স্বাদ নয়; এটি সরাসরি রক্ত পরিষ্কার করে এবং ফুসফুসের ক্ষত শুকাতে সাহায্য করে।

বাসক অবলেহর आयुर्वेদिक গুণাগুণ ও শরীরে প্রভাব

প্রতিটি ভেষজ উপাদান শরীরে কীভাবে কাজ করে, তা বোঝার জন্য এর পাঁচটি মূল বৈশিষ্ট্য বা 'পঞ্চভূত' জানা প্রয়োজন। বাসক অবলেহর এই বৈশিষ্ট্যগুলো জানলে আপনি বুঝতে পারবেন কেন এটি আপনার নির্দিষ্ট সমস্যার জন্য উপযোগী:

গুণ (সংস্কৃত)মান (প্রকৃতি)আপনার শরীরে প্রভাব
রস (স্বাদ)তিক্ত, কষায়তিক্ত স্বাদ বিষ নাশ করে ও রক্ত পরিষ্কার করে; কষায় স্বাদ ক্ষত শুকায় ও রক্তস্রাব থামায়।
গুণ (ভৌত ধর্ম)স্নিগ্ধঅল্প তৈলাক্ত হওয়ায় এটি সহজে শোষিত হয় এবং শুকনো কাশিতে গলা নরম রাখে।
বীর্য (শক্তি)শীতলশরীরের তাপ কমায়, বুক জ্বালাপোড়া ও পিত্তজনিত জ্বরে আরাম দেয়।
বিপাক (হজম পরবর্তী)কটুহজমের পর এটি শ্লেষ্মা বা কফ গলিয়ে বের করে আনতে সাহায্য করে।
প্রভাব (দোষ)কফ-পিত্ত নাশকফুসফুসের মিউকাস কমায় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে।

বাসক অবলেহর এই ঠান্ডা ও কষায় ধর্ম এটিকে রক্তপিত্ত বা ফুসফুস থেকে রক্ত পড়ার ক্ষেত্রে স্বর্ণমান হিসেবে গণ্য করে। তবে যাদের হজমশক্তি খুব দুর্বল বা শরীরে প্রচণ্ড ঠান্ডা (বাত) আছে, তাদের সতর্ক থাকা উচিত।

বাসক অবলেহ কীভাবে এবং কতটুকু খাবেন?

সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দিনে দুবার ১ থেকে ২ চা-চামচ বাসক অবলেহ কুসুম গরম পানি, দুধ অথবা মধুর সাথে মিশিয়ে খেতে দেওয়া হয়। ছোটদের ক্ষেত্রে মাত্রা অর্ধেক বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হতে পারে।

খাওয়ার সেরা সময় হলো সকালে নাস্তার পর এবং রাতে খাওয়ার আগে। যদি আপনার গলায় খুব বেশি কফ জমে থাকে, তবে আদার রসের সাথে মিশিয়ে খেলে উপকার দ্বিগুণ হয়। মনে রাখবেন, এটি ঔষধি আচার, তাই সাধারণ মিষ্টি আচারের মতো প্রচুর পরিমাণে খাওয়া উচিত নয়।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

বাসক অবলেহ খাওয়ার নিয়ম এবং মাত্রা কত?

সাধারণত দিনে দুবার ১-২ চা-চামচ বাসক অবলেহ কুসুম গরম পানি বা দুধের সাথে মিশিয়ে খেতে হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে মাত্রা কমিয়ে অর্ধেক চা-চামচ দেওয়া যেতে পারে।

বাসক অবলেহ কি গর্ভাবস্থায় খাওয়া যায়?

গর্ভাবস্থায় বাসক অবলেহ সেবন করা উচিত নয় কারণ এটি জরায়ু সংকোচন ঘটাতে পারে। এই সময়ে যেকোনো आयুर्वेदিক ঔষধ খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

বাসক অবলেহ কী ধরনের কাশিতে কাজ করে?

এটি মূলত শ্লেষ্মা জমা হওয়া কাশি, দম এবং ব্রঙ্কাইটিসে খুব কার্যকর। এটি গলা ও ফুসফুস থেকে জমাট বাঁধা কফ গলিয়ে বের করে আনতে সাহায্য করে।

বাসক অবলেহ খাওয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কি?

অতিরিক্ত মাত্রায় খেলে এটি কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেটে ব্যথা করতে পারে। যাদের শরীরে প্রচণ্ড ঠান্ডা বা বাতের সমস্যা আছে, তাদের সতর্ক থাকা উচিত।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

তেজপাতা: কফ ও বাত দূর করে হজম শক্তি বাড়ায়

তেজপাতা শুধু মশলা নয়, এটি কফ ও বাত দূর করে হজম শক্তি বাড়ায়। আয়ুর্বেদিক গ্রন্থ অনুযায়ী, নিয়মিত তেজপাতা খেলে গায়ে ব্যথা ও কফ দ্রুত কমে।

2 মিনিট পড়ার সময়

চাভ্য (Chavya): হজম শক্তি বাড়াতে এবং বাত-কফ ভারসাম্য রক্ষায় প্রাচীন ঔষধ

চাভ্য বা পিপুলমূল হলো হজমের আগুন জ্বালানোর প্রাচীন ঔষধ যা বাত ও কফ দূর করে। চরক সংহিতা অনুযায়ী, এটি শরীরের জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থ গলিয়ে দেয় এবং শীতকালে পেটের সমস্যার জন্য অত্যন্ত উপকারী।

2 মিনিট পড়ার সময়

আমলকী: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও বাত সমতায় প্রাচীন আয়ুর্বেদিক উপায়

আমলকী হলো আয়ুর্বেদের সেরা ত্রিদোষ নাশক ফল, যা প্রতি সার্ভিংয়ে কমলার চেয়ে ২০ গুণ বেশি ভিটামিন সি ধারণ করে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং চরক সंहিতা অনুযায়ী শরীরের সব দোষের ভারসাম্য রক্ষা করে।

2 মিনিট পড়ার সময়

মহামঞ্জিষ্ঠাদি: রক্তশোধক শক্তি এবং ত্বকারোগ নিরাময়ে প্রাচীন সমাধান

মহামঞ্জিষ্ঠাদি হল আয়ুর্বেদের একটি শক্তিশালী রক্তশোধক ঔষধ যা মঞ্জিষ্ঠা মূল থেকে তৈরি। এটি রক্ত পরিষ্কার করে, পিত্ত দোষ কমায় এবং ব্রণ, দাগ ও এক্জিমার মতো ত্বকারোগ দ্রুত নিরাময় করে।

3 মিনিট পড়ার সময়

কaranja (কaranja): কফ দোষ, ত্বচা রোগ ও ওজন কমাতে প্রাকৃতিক সমাধান

কaranja বা পিঙ্গল ত্বচা রোগ ও কফজনিত ওজন কমাতে আয়ুর্বেদের একটি শক্তিশালী ওষুধ। চরক সংহিতায় একে 'চরক লাহা' বা ত্বচা রোগ নাশক বলা হয়েছে, যা রক্ত পরিষ্কার করে এবং টিস্যু থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়।

2 মিনিট পড়ার সময়

টাক বা দারুচিনি: সর্দি, প্রদাহ ও মেটাবলিজম বাড়াতে প্রাকৃতিক সমাধান

দারুচিনি বা টাক হলো কফ ও বাত দোষ কমানোর একটি প্রাচীন ও কার্যকর উপায়, যা শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে হজম শক্তি বৃদ্ধি করে। আয়ুর্বেদিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত খেলে কোলেস্টেরল ১৫% কমে।

3 মিনিট পড়ার সময়

তথ্যসূত্র ও উৎস

এই নিবন্ধটি চরক সংহিতা, সুশ্রুত সংহিতা এবং অষ্টাঙ্গ হৃদয়ের মতো প্রাচীন আয়ুর্বেদিক গ্রন্থের নীতির উপর ভিত্তি করে। নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য যোগ্য আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

  • • Charaka Samhita (चरक संहिता)
  • • Sushruta Samhita (सुश्रुत संहिता)
  • • Ashtanga Hridaya (अष्टांग हृदय)
এই ওয়েবসাইট শুধুমাত্র সাধারণ তথ্য প্রদান করে। এখানে দেওয়া তথ্য কোনোভাবেই চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। যেকোনো চিকিৎসা গ্রহণের আগে আপনার চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করুন।

এই নিবন্ধে কোনো ভুল পেয়েছেন? আমাদের জানান