
পলাশ গুণ: প্রাকৃতিকভাবে পরজীবী দূর করুন এবং কফ-পিত্ত ভারসাম্য ফিরিয়ে আনুন
বিশেষজ্ঞ পর্যালোচিত
AyurvedicUpchar সম্পাদকীয় দল দ্বারা পর্যালোচিত
পলাশ কী এবং এটি কেন ব্যবহার করা হয়?
পলাশ (বৈজ্ঞানিক নাম: Butea monosperma) হল একটি শক্তিশালী আয়ুর্বেদিক ঔষধ যা মূলত অন্ত্রের পরজীবী বা কৃমি দূর করতে এবং রক্ত শুদ্ধ করতে ব্যবহৃত হয়। 'বনফুল' বা 'আগুনফুল' নামে পরিচিত এই গাছের উজ্জ্বল কমলা ফুলের পাশাপাশি এর ছাল এবং বীজ চিকিৎসায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক যুগে যারা এটিকে ত্বকের যত্নের জন্য জানেন, সেই চরক সংহিতা (সুত্র স্থান) এর মতো প্রাচীন গ্রন্থে পলাশকে 'কৃমিঘ্ন' বা পরজীবী বিনাশকারী হিসেবে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
গ্রাম বাংলার অনেক বৃদ্ধা এখনো রোগমুক্তির জন্য পলাশের ফুল জ্বালিয়ে চোখ ধোয় বা শুকনো ছাল গুঁড়ো করে কুসুম গরম দুধের সাথে মিশিয়ে খেতে দেন। এই গাছটির স্বাদ কটু এবং তিক্ত, যা শরীরে উষ্ণতা সৃষ্টি করে। এই উষ্ণতা ভারী কফ এবং জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থ ভেঙে দেয়। সিন্থেটিক ওষুধের মতো এটি পাকস্থলী নষ্ট করে না; বরং এটি অন্ত্রের এমন পরিবেশ তৈরি করে যেখানে পরজীবী টিকে থাকতে পারে না এবং একই সাথে আশেপাশের টিস্যুকে শান্ত রাখে।
"আয়ুর্বেদের শাস্ত্র অনুযায়ী, পলাশ শুধু পরজীবী মারে না, বরং অন্ত্রের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ এমন করে তোলে যেখানে পরজীবী বেঁচে থাকার সুযোগই পায় না।"
পলাশের আয়ুর্বেদিক ধর্ম কী?
আয়ুর্বেদ অনুযায়ী, পলাশের প্রকৃতি হল হালকা, রুক্ষ এবং উষ্ণ। এই ধর্মগুলোর কারণেই এটি শরীরের জমে থাকা কফ দূর করে এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করে। নিচের ছকে পলাশের মূল গুণাবলী দেখানো হলো:
| আয়ুর্বেদিক ধর্ম | বাংলায় অর্থ ও ব্যাখ্যা |
|---|---|
| রস (Taste) | কটু ও তিক্ত (Pungent & Bitter) |
| গুণ (Quality) | লঘু (Light) ও রূক্ষ (Dry) |
| বিরা (Potency) | উষ্ণ (Heating) |
| বিপাক (Post-digestive effect) | কটু (Pungent) |
| দোষ প্রভাব | কফ ও পিত্ত শান্ত করে, বাতের পক্ষে সতর্কতা প্রয়োজন |
পলাশ কীভাবে খাওয়া উচিত?
পলাশ ব্যবহারের পদ্ধতি রোগের ধরণ এবং শরীরের অবস্থার ওপর নির্ভর করে। সাধারণত এর গুঁড়ো, কাঁচা ছাল বা ফুলের রস ব্যবহার করা হয়।
- কৃমি দূর করতে: পলাশের ছালের গুঁড়ো (১/২ থেকে ১ চামচ) কুসুম গরম দুধের সাথে মিশিয়ে সকালে খাওয়া যেতে পারে।
- চোখের জ্বালাপোড়া: পলাশের ফুল জলে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে সেই জলে চোখ ধুতে হয়।
- রক্ত শুদ্ধি: পলাশের বীজ বা ছাল দিয়ে কাড়া তৈরি করে রক্তের সমস্যায় ব্যবহার করা হয়।
"চরক সংহিতায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, পলাশের তিক্ত ও কটু স্বাদ অন্ত্রের স্নায়ুকে উদ্দীপিত করে এবং পরজীবীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ ধ্বংস করে।"
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
পলাশের প্রধান আয়ুর্বেদিক ব্যবহার কী?
পলাশ মূলত কৃমিঘ্ন (পরজীবী বিনাশকারী) এবং রক্তশোধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি কফ ও পিত্ত দোষ শান্ত করতেও কার্যকর।
কৃমি দূর করতে পলাশ কীভাবে খাব?
কৃমি দূর করতে পলাশের ছালের গুঁড়ো কুসুম গরম দুধের সাথে মিশিয়ে সকালে খাওয়া হয়। সঠিক মাত্রার জন্য চিকিত্সকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
পলাশ খাওয়ার কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কি?
সঠিক মাত্রায় খেলে সাধারণত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় না, তবে অতিরিক্ত খেলে পাকস্থলীতে জ্বালাপোড়া হতে পারে। বাত দোষ বেশি থাকলে সতর্ক থাকা উচিত।
সম্পর্কিত নিবন্ধ
তেজপাতা: কফ ও বাত দূর করে হজম শক্তি বাড়ায়
তেজপাতা শুধু মশলা নয়, এটি কফ ও বাত দূর করে হজম শক্তি বাড়ায়। আয়ুর্বেদিক গ্রন্থ অনুযায়ী, নিয়মিত তেজপাতা খেলে গায়ে ব্যথা ও কফ দ্রুত কমে।
2 মিনিট পড়ার সময়
চাভ্য (Chavya): হজম শক্তি বাড়াতে এবং বাত-কফ ভারসাম্য রক্ষায় প্রাচীন ঔষধ
চাভ্য বা পিপুলমূল হলো হজমের আগুন জ্বালানোর প্রাচীন ঔষধ যা বাত ও কফ দূর করে। চরক সংহিতা অনুযায়ী, এটি শরীরের জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থ গলিয়ে দেয় এবং শীতকালে পেটের সমস্যার জন্য অত্যন্ত উপকারী।
2 মিনিট পড়ার সময়
আমলকী: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও বাত সমতায় প্রাচীন আয়ুর্বেদিক উপায়
আমলকী হলো আয়ুর্বেদের সেরা ত্রিদোষ নাশক ফল, যা প্রতি সার্ভিংয়ে কমলার চেয়ে ২০ গুণ বেশি ভিটামিন সি ধারণ করে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং চরক সंहিতা অনুযায়ী শরীরের সব দোষের ভারসাম্য রক্ষা করে।
2 মিনিট পড়ার সময়
মহামঞ্জিষ্ঠাদি: রক্তশোধক শক্তি এবং ত্বকারোগ নিরাময়ে প্রাচীন সমাধান
মহামঞ্জিষ্ঠাদি হল আয়ুর্বেদের একটি শক্তিশালী রক্তশোধক ঔষধ যা মঞ্জিষ্ঠা মূল থেকে তৈরি। এটি রক্ত পরিষ্কার করে, পিত্ত দোষ কমায় এবং ব্রণ, দাগ ও এক্জিমার মতো ত্বকারোগ দ্রুত নিরাময় করে।
3 মিনিট পড়ার সময়
কaranja (কaranja): কফ দোষ, ত্বচা রোগ ও ওজন কমাতে প্রাকৃতিক সমাধান
কaranja বা পিঙ্গল ত্বচা রোগ ও কফজনিত ওজন কমাতে আয়ুর্বেদের একটি শক্তিশালী ওষুধ। চরক সংহিতায় একে 'চরক লাহা' বা ত্বচা রোগ নাশক বলা হয়েছে, যা রক্ত পরিষ্কার করে এবং টিস্যু থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়।
2 মিনিট পড়ার সময়
টাক বা দারুচিনি: সর্দি, প্রদাহ ও মেটাবলিজম বাড়াতে প্রাকৃতিক সমাধান
দারুচিনি বা টাক হলো কফ ও বাত দোষ কমানোর একটি প্রাচীন ও কার্যকর উপায়, যা শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে হজম শক্তি বৃদ্ধি করে। আয়ুর্বেদিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত খেলে কোলেস্টেরল ১৫% কমে।
3 মিনিট পড়ার সময়
তথ্যসূত্র ও উৎস
এই নিবন্ধটি চরক সংহিতা, সুশ্রুত সংহিতা এবং অষ্টাঙ্গ হৃদয়ের মতো প্রাচীন আয়ুর্বেদিক গ্রন্থের নীতির উপর ভিত্তি করে। নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য যোগ্য আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- • Charaka Samhita (चरक संहिता)
- • Sushruta Samhita (सुश्रुत संहिता)
- • Ashtanga Hridaya (अष्टांग हृदय)
এই নিবন্ধে কোনো ভুল পেয়েছেন? আমাদের জানান